সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোয় হুথিদের বড় হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ২০২৬-১০-১৪ ০৮:৩৮:৪৯


সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানার একটি সানার একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় পূর্ব অঞ্চলের শহর দহরানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে হুথিরা।

সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবারের এ হামলায় সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক সতর্কবার্তায় সৌদির তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ আখ্যা দিয়ে এগুলোর আশপাশে থাকা সব কর্মচারী ও বেসামরিক লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এর কিছুক্ষণ পরই আরামকোর সদর দপ্তরে এই হামলা চালানো হলো।

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার ইয়েমেনি অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় হুথিদের এই হুঁশিয়ারি আসে।

জোটের এই আদেশের জবাবে হুথি মুখপাত্র জানান, সানায় যেকোনো ধরনের বিমান হামলা চালানো হলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে এর ‘কঠোর ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে এসপিএ জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এসপিএ জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো নিচে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি জোটের পক্ষ থেকে খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই সানায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানান আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সৌদির নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় রাজধানীর আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হুথি কর্মকর্তারা অবশ্য আগেই এই হামলার আশঙ্কা করেছিলেন। তেল কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মজুতাগারগুলো আগেই খালি করা হয়েছিল, তাই এই হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ বা মজুতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তবে ঘাটতির আশঙ্কায় নগরের পেট্রল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউসেফ মাওরি বলেন, ‘রাজধানী সানার এই কেন্দ্রীয় তেল স্টেশনে বিমান হামলার পরপরই আমরা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই।’

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব লোহিত সাগরের রাস ঈসা বন্দরেও বিমান হামলা চালিয়ে জ্বালানি তেলের ট্যাংক ধ্বংস করেছে এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ প্রদেশের একটি তেল কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।

সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করে বলেন, হুথিরা এই স্থাপনা ও এর ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপোকে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করছিল।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর হুথি মুখপাত্র জানান, ইয়েমেনি যোদ্ধারা সানায় সৌদি জোটের অনুগত বাহিনীর মুখোমুখি লড়াই করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সারি সতর্ক করে বলেন, সৌদি জোট সানায় আক্রমণ অব্যাহত রাখলে খালি করার নির্দেশ দেওয়া অঞ্চলগুলোতে হামলা চালানো হবে।

মঙ্গলবার দহরানের আরামকো সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগার থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এনজে