বিশ্ববাজারে ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ২০২৬-০৯-১৪ ১১:৩৯:১৭


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলর দাম ২.৯০ ডলার বা ২.৭৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭.৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সৌদি আরবে নতুন করে হুতি হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে ইরানের হামলার খবরের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে যায়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২.২৭ ডলার বা ২.২৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.৩২ ডলারে পৌঁছায়। বাজার শুরুর সময় তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল।

রবিবার রাত ১০টা ১৪ মিনিটে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৬২ ডলার বা ৩.৪৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.২৩ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩.১৫ ডলার বা ৩.১৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.২০ ডলারে পৌঁছায়। গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।

জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বাড়লে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে দাম আরো বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। গতকাল রবিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও একটি মসজিদের ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুথিরা হামলাটি চালিয়েছে। হুতিরাও জানিয়েছে, তারা পাশের একটি প্রদেশে সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটির ক্রু সদস্যরা নিরাপদে সরে যান বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার ইরাক থেকে পরিচালিত একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইন দিয়ে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহন করা যায়। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা শুক্রবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এতে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ দিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়, তা নিয়ে সোমবার ইরান, ওমানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বক বলেন, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে এখনো নতুন করে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। গত জুনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হলেও কয়েক সপ্তাহ পর তা ভেঙে যায়। এরপর যুদ্ধ বন্ধে আর কোনো শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ছয় মাস আগে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

এনজে