ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অনিয়ম প্রতিরোধে জোর আইপিএফ চেয়ারম্যানের

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-২৮ ১৬:২০:৫০


বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ, ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের (আইপিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম।

তিনি বলেন, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের ভূমিকা শুধু ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত আইপিএফের অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইপিএফ চেয়ারম্যান বলেন, কোনো ট্রেডহোল্ডার ডিফল্ট করলে তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্যই এই প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিনিয়োগকারীরা যখন পুঁজিবাজারে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেন, তখন তারা শুধু একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নেন না; বাজারের প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি এবং একটি সুশৃঙ্খল বিনিয়োগ পরিবেশের ওপরও আস্থা রাখেন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের সঙ্গে ঝুঁকি রয়েছে। তবে কোনো ট্রেডহোল্ডারের ডিফল্টের কারণে একজন বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়লে তার পাশে একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএফ থেকে দেওয়া অর্থ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধ এবং তাদের আস্থার প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

নাসরিন বেগম আরও বলেন, আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে অনেক সময় মানুষের স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জড়িত থাকে। কোনো ক্ষতিপূরণই সেই কষ্ট পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

তিনি আইপিএফের ক্ষতিপূরণ কাঠামো, ক্লেইম নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পর্যালোচনা ও আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একজন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী শুধু প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার সুযোগই পাবেন—এমন নয়; প্রতিকার হতে হবে সময়সীমাবদ্ধ, স্বচ্ছ ও কার্যকর। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বাজারে জবাবদিহিতা আরও নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিএফ চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও আস্থা রক্ষা জনস্বার্থেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ একটি সুস্থ ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, মূলধন গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব শুধু ক্ষতির পর প্রতিকার দেওয়া নয়; এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে অনিয়ম প্রতিরোধ করা যায় এবং ঝুঁকি কমানো যায়। সমস্যা হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি, স্টক এক্সচেঞ্জের শক্তিশালী সুপারভিশন ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা, ট্রেডহোল্ডার ও অন্যান্য বাজার মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্বশীলতা, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আইপিএফ চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আইপিএফের সুরক্ষা কাঠামো সময়ের সঙ্গে আধুনিক ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না কোনো বিনিয়োগকারী ক্ষতির পর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে দুশ্চিন্তায় জীবন কাটাক। আমরা চাই সমস্যা হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা হোক। কোনো সমস্যা হলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার নিশ্চিত করা হোক।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ, তাদের স্বার্থ পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও বিনিয়োগকারীবান্ধব করে তুলতে তারা দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন।

তিনি বলেন, আজকের অর্থ বিতরণ কোনো সমাপ্তি নয়, বরং আরও দায়িত্বশীল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একজন বিনিয়োগকারীর আস্থা শুধু একজন বিনিয়োগকারীর আস্থা নয়; এটি পুরো পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা। সেই আস্থা রক্ষা করাই সংশ্লিষ্ট সবার বড় দায়িত্ব।

বিএইচ