প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬.৩৪ শতাংশ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-০১ ২১:৩৬:০৩


চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩৯৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩৬৩ কোটি ডলার। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সেপ্টেম্বরের ভালো প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

ইপিবি বলেছে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অব্যাহত আস্থার প্রতিফলন। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে পণ্য বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের মানোন্নয়ন ও বাণিজ্য সহজীকরণে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের মোট পণ্য রপ্তানিতে বড় অবদান রাখা তৈরি পোশাক খাতই সেপ্টেম্বরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৩০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২৮৪ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ও ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৫৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৭ কোটি ডলার।

তৈরি পোশাকের মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৫৯৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় ছিল ৫৫৮ কোটি ডলার।

একই সময়ে ওভেন পোশাক খাতে রপ্তানি ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ৪৬১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৯ কোটি ডলার।

তৈরি পোশাকের বাইরে দেশের অন্যান্য প্রধান রপ্তানি খাতের মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মিশ্র প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি আয়ও কমেছে। এ খাতে রপ্তানি আয় ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

তবে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতের রপ্তানি আয় ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতের আয় ছিল ৩২ কোটি ডলার।

একই সময়ে হোম টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

এছাড়া হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এএ