প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী
আগামী ১২ মাসে দেশের পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-০৪ ১৯:৩৩:৩২
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেছেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারকে এ অঞ্চলের অন্য বাজারগুলোর সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ মাসে দেশের পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তানভীর গনি বলেন, পুঁজিবাজারের সংস্কারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে চলছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) নিয়ম, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর বিধিমালা এবং ট্রাইব্যুনালসংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। বাজারের কার্যকারিতা বাড়াতে ফ্লোর প্রাইস, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা বাড়ানো এবং একটি ন্যায্য ও দক্ষ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারে নতুন আর্থিক পণ্য চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তানভীর গনি। তিনি বলেন, কনভার্টিবল বন্ড, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি), ইক্যুইটি স্টক অপশন এবং স্থানীয় মুদ্রায় বন্ডের মতো নতুন পণ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব পণ্য চালু হলে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং বাজার আরও গভীর হবে।
মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসঙ্গে তানভীর গনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কর-সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে বিমা ও পেনশন খাতের অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আনার সুযোগ রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যাংকের পাশাপাশি এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অর্থ পুঁজিবাজারে এলে বাজারের গভীরতা বাড়বে।
পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নে বাজার মূলধন ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত এবং বাজার মূলধন ও গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের অনুপাতের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব সূচকের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে বাজারের প্রবণতা বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিমালা আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তানভীর গনি। তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার আওতায় রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট চারটি প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে নিয়মিত মাসিক সমন্বয় সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নীতিগত সমন্বয় আরও বাড়বে।
তানভীর গনি বলেন, পুঁজিবাজারের সংস্কারে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো হচ্ছে। একইসঙ্গে বাজারের মূল কাঠামো আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। তার আশা, আগামী ১২ মাসে দেশের পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে।
তিনি বলেন, এসব সংস্কার ও উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে এ অঞ্চলের অন্য বাজারগুলোর সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













