বাংলাদেশের ওষুধ ও সুতা কেনার আশ্বাস পাকিস্তানের

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-০৪ ২২:০৩:৪৩


পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে সেখান থেকে কেমিক্যালস ও ডাইস আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জুট ইয়ার্ন ও ওষুধ কেনার আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান সফরে গেলে সেখানকার আমদানিকারক ও বায়ারদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ওষুধ ও পাটের সুতা কেনার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার।

রোববার (৪ অক্টোবর) উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ সোহেল এবং মহাসচিব মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ বিপুল পণ্য পাকিস্তান থেকে আনে বাংলাদেশ। সেই তুলনায় সেখানে রপ্তানি অনেক কম। বৈঠকে এই ঘাটতি কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশে ৭১৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি ছিল ৬৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০ গুণ কম। আগের অর্থবছরের তুলনায় পাকিস্তানের রপ্তানি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ ও বাংলাদেশের রপ্তানি ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি পাকিস্তান থেকে কেমিক্যালস ও ডাইস আমদানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জুট ইয়ার্ন ও আন্তর্জাতিক মানের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বড় পরিসরে আমদানির অনুরোধ জানান। হাইকমিশনার এসব প্রস্তাবে আগ্রহ দেখান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকেরা পাকিস্তান সফর করলে সেখানকার শীর্ষ আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, বায়ার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট বিটুবি বৈঠক ও ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজন করা হবে।

বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়।

বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। উত্তরণের পর এই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। বাণিজ্য প্রবাহ সুরক্ষিত রাখতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

লজিস্টিকস প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগছে। এটি কমানো জরুরি। দুই দেশের সহযোগিতায় এ বাধা দূর করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতার কথা ওঠে। হাইকমিশনার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) ও পাকিস্তানের শীর্ষ ফ্যাশন ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদানের প্রস্তাব দেন। টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে, আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি আরো শক্তিশালী করবে।

বিএইচ