শিবচরে মাকে হত্যার পর ব্রীজ থেকে ছুড়ে ফেলা শিশুর মরদেহ উদ্ধার
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৮-২৪ ১২:৫৫:০৩
মাদারীপুরের শিবচরে চাঞ্চল্যকর মা হত্যা মামলার ৫ দিন পর আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া ১ বছরের শিশু আবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড় সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা শিবচর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
গত ১৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর থানাধীন মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি সাকিনস্থ খান বাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে বিল্লাল শিকদার গংদের জমির ঝোপের পাশে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে।
শনাক্তকৃত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোর জেলার লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে।
বাদী ছামরুল ইসলাম জানান, ৩ বছর আগে মাদারীপুর জেলার বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার মেয়ে শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১ বছর বয়সী ছেলে আবির রয়েছে। ১৯ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান। একই সাথে তার নাতি আবির নিখোঁজ রয়েছে বলে জানতে পারেন।
এ ঘটনায় ২০ আগস্ট ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এর নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, শিবচর সার্কেল মো. সালাহ উদ্দিন কাদের এর নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮, মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানে শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আসামি ফারুক, পিতা- রতন মোল্লা, স্থায়ী ঠিকানা- জয়সোমা, তেরখাদা, খুলনা, বর্তমান ঠিকানা- বাখরেরকান্দি, মাদবরচর, শিবচর, মাদারীপুর এর বাসা তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে আসামির হেফাজত থেকে ভিকটিম শাম্পা খাতুনের ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন ও রুপার গলার চেইন, বাসার চুলা থেকে পোড়ানো অবস্থায় ভিকটিমের ওড়না এবং এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফারুক শিশু আবিরকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। এরপর থেকেই নদীতে নিখোঁজ শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে ৫ দিন পর আজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হলো।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














