জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ০.৬৯ শতাংশ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৮-২৪ ২১:২৯:০০


  • এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ
  • জুলাইয়ে এডিপি ব্যয় মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা
  • সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে সরকারি কর্মকমিশন
  • প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে মাঠে পরিকল্পনা কমিশন
  • এডিপি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোকে ব্যয় বাড়ানোর নির্দেশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের কোনো টাকাই খরচ করতে পারেনি সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ। পুরো বছরে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্পের অনুকূলে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রথম মাসে টাকা খরচের খাতা শূন্য। ফলে প্রথম মাস শেষে সার্বিকভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১ শতাংশ বাস্তবায়নও হয়নি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই শেষে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে টাকা খরচ হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। শতাংশের হিসাবে যা গত অর্থবছরের সমান। এর আগের ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে অবশ্য ১ শতাংশের বেশি ব্যয় হয়েছিল।

সম্প্রতি সরকার অর্থবছরের সময়কাল বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুলাই–জুন সময়ের পরিবর্তে এপ্রিল–মার্চ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮–২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়কাল ধরেই সবকিছু হবে। অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো অর্থবছরের শুরুতে বর্ষাকাল হওয়ায় প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হয় না। বৃষ্টির কারণে অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা খরচ করা সম্ভব হয় না। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা যাতে আরও কার্যকরভাবে খরচ করা যায়, সে জন্য অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়।

খরচ ‘শূন্য’ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনগুলো

জুলাই মাসে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে হিসাবে খাতা খুলতে না পারা অন্য মন্ত্রণালয়ের বা বিভাগের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। একই অবস্থা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের। অথচ এই দুই বিভাগে মিলিয়ে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সেতু বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কোনো টাকা ব্যয় করেনি। ব্যয় শুরু করেনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও। এ ছাড়া শিল্প; বাণিজ্য; ধর্ম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও এই তালিকায় আছে।

বেশি ব্যয় করেছে কারা

বরাদ্দের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। ২৯ কোটি টাকার বিপরীতে সোয়া দুই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সংস্থাটি মোট বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। প্রায় ৭ শতাংশ ব্যয় করেছে সংসদ বিষয়ক সচিবালয়। সাড়ে ৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বরাদ্দের ৫ শতাংশ ব্যয় করেছি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছরের শুরুর দিকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সাধারণত প্রস্তুতিমূলক কাজ ও কর্মপরিকল্পনা সাজায়। এ কারণে শুরুর দিকে অর্থব্যয় কম থাকে। তবে পরবর্তী সময়ে ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়বে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এডিপির অর্থব্যয় বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে এডিপি বাস্তবায়ন জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মোট এডিপির প্রায় অর্ধেকই ব্যয় হয় ভৌত অবকাঠামো প্রকল্পে। ফলে এসব প্রকল্পে সব ধরনের জটিলতা দূর করতে অর্থবছরের শুরুতেই বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং বাস্তবায়ন জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রেলওয়ে, সেতু বিভাগ ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

কবির আহমেদ আরও বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রতি সপ্তাহে প্রকল্প পরিদর্শনে যাচ্ছে। যেসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, সেসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে, যাতে কোনো কারণে বাস্তবায়ন থেমে না থাকে।
একইভাবে এডিপি বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে আইএমইডিও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তারা জানান, প্রতি মাসে কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা সভা আয়োজন করা হচ্ছে। বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা দেখা দেবে, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এএ