জমি নিয়ে বিরোধে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী আহত; গ্রেফতার ১

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৮-২৮ ১৫:৫০:৩২


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজ সম্পত্তিতে হাল চাষ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ মিজানুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের আষ্টা গ্রামে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আষ্টা গ্রামের ব্যবসায়ী মনির হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ও তার স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার মনির হোসেন তার জমিতে হাল চাষ করতে গেলে ওয়াহেদ গং বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।

মনির হোসেনের অভিযোগ, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন। তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তার হাতে গুরুতর জখম হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারও মাথায় আঘাত পান।

এ ঘটনায় মনির হোসেন ২৬ আগস্ট ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় মিজানুর রহমান, ফরিদ হোসেন, নাহার বেগম ও জোৎসনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পুলিশ মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

মামলার বাদী মনির হোসেন বলেন, “আমি একজন নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। আইনের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে আইন-আদালতের আশ্রয় নেওয়া যেত। কিন্তু তারা অস্ত্র ও পেশিশক্তি প্রয়োগ করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আমি হাত দিয়ে প্রতিহত করে মাথা রক্ষা করি। আমাকে বাঁচাতে এসে আমার স্ত্রীও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।”

জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাওয়ার কথা জানিয়ে মনির হোসেন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভূমি অফিস ও থানায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও প্রতিপক্ষ সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, একটি বিতর্কিত দলিলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ জমির মালিকানা দাবি করছে।

এ বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে মিজানুর রহমানের খালাতো ভাই ও গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ১নং  ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মনির পাটওয়ারী বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমার কাছেও একাধিকবার এসেছেন। তিনি বসে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছেন। কিন্তু ওয়াহেদ পাটওয়ারী সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে সেখানে সমাধান হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি ভূমি অফিস ও থানায়ও গড়িয়েছে। সেখানেও সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। সর্বশেষ মনির পাটওয়ারী ওই জমিতে হাল চাষ করতে গেলে ওয়াহেদ পাটওয়ারীর সঙ্গে মারামারি হয়। তবে ওই সময় আমার খালাতো ভাই মিজান সেখানে ছিলেন না।”

গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মনির পাটওয়ারী এ বিষয়ে আমার কাছেও এসেছেন। আমি আবদুল ওয়াহেদকে বিষয়টি জানিয়ে উভয় পক্ষকে বসে মীমাংসার কথা বলেছি। কিন্তু ওয়াহেদ বসতে রাজি হননি। তিনি আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন।”

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এরশাদ উল্ল্যাহ জানান, মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার ও ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এনজে