শিক্ষামন্ত্রী
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধায় বছরে ঘাটতি ৩২৪ কোটি টাকা
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-০৮ ১৮:৫৩:১১
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালীন কল্যাণ সুবিধা দিতে ৩২৪ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া প্রশ্ন রেখে বলেছেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যারা অবসরে গেছেন, দীর্ঘদিন যারা এককালীন অবসর ভাতার পূর্ণ অর্থ পাচ্ছেন না। তাদের উক্ত ভাতার অর্থ দ্রুত দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, হলে তা কী?
জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালীন কল্যাণ সুবিধার অর্থ দ্রুত দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ১৯৯০ সালের ২৮ নম্বর আইন ও প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ অনুযায়ী পরিচালিত একটি আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতন থেকে মাসিক শতাংশ হারে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ১ মে ২০২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদনকারী ৪২ হাজার ৯৩৮ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের চাকরিকালে মূল বেতন থেকে কর্তন করা চাঁদার অর্থ বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬ টাকা আইবাস++ এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আরও প্রায় ১৩ হাজার আবেদনকারীকে কর্তন করা চাঁদার অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সমস্যা সমাধানে চলতি বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় ও বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রবিধানমালা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে প্রতি মাসে চাঁদা বাবদ প্রায় ৫৪ কোটি টাকা এবং স্থায়ী আমানত ও চলতি হিসাবের সুদ বাবদ প্রায় ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৫৭ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। ফলে মাসিক ঘাটতি প্রায় ২৭ কোটি এবং বার্ষিক ঘাটতি প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন ও নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ, ট্রেজারি বন্ড, আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং আইবাস++ এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দ্রুত অর্থ পরিশোধব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্থের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














