লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারের কাছে একাধিক বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-১০-০৫ ০৯:১৮:৫৭
সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের উপকূলে লোহিত সাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের খুব কাছে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হননি।
বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোকা থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ট্যাংকারটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জাহাজের খুব কাছাকাছি একাধিক বিস্ফোরণ হতে দেখেন।
তবে, কী কারণে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এছাড়া, ট্যাংকারটির নামও প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে আছেন এবং বিস্ফোরণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ওই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা চোখে পড়লে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট। গত রোববার এক বিবৃতিতে জোটটি এ অবস্থানের কথা জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ওই বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল মালিকি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
গোষ্ঠীটি জোরপূর্বক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে, অনাহারে রাখছে, জাতীয় সম্পদ লুট করছে এবং শিশুদের যুদ্ধে নিয়োগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া, সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা ও রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন শহরে হুথিদের হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তুর্কি আল মালিকি।
তিনি বলেন, দক্ষিণ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হুমকির কারণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
হুথিদের এসব কর্মকাণ্ড শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বিশ্ববাণিজ্য, সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে তুর্কি আল মালিকি আরও বলেন, ইয়েমেনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশটির বৈধ সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দিতে জোটের যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হুথিদের অভ্যুত্থানের অবসান ঘটিয়ে সরকারকে আবারও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।
একই সঙ্গে, হুথিদের হুমকি দূর করা এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইয়েমেনের জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে।
এর পর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটির সৌদি-সমর্থিত সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট।
সম্প্রতি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এসময় ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের ওপর চালানো হামলার জবাব দিতেই এসব আক্রমণ করা হয়েছে।
সূত্র: তুর্কি টুডে
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













